• August 31, 2021

২০২১ সালে কিভাবে বয়স্ক ও বিধবাভাতার জন্য আবেদন করবেন প্রথম থেকে শেষ ধাপ পর্যন্ত

আসসালামু আলাইকুম, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বয়স্ক ও বিধবাদের জন্য শতভাগ ভাতার ঘোষণা করেছেন । আমরা এর আগে দেখেছি ভাতার কার্ড করতে হলে স্থায়ী মেম্বর বা চেয়ারম্যানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হত । অনেক সময় তাদেরকে টাকা দিতে হত কার্ড পাওয়ার জন্য । আবার দেখা যেত ভাতার টাকা পেতে হলেও সেখান থেকে তাদেরকে ঘুষ প্রদান করতে হত ।

অনেক লম্বা সময় ধরে অপেক্ষার পরও ভাতা পাওয়া যেত না । কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে এবছর থেকে সমাজসেবার অধীনে বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতার আবেদন অনলাইন করে দিয়েছে । যার ফলে এখন আর কারোর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না । ঘরে বসেই যে কেউ তার ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে । আজের পোষ্টে আমরা আপনাদেরকে দেখাবো কিভাবে অনলাইনে বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করবেন । তাহলে চলুন শুরু করা যাক ।

কিভাবে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন করবেন

১। প্রথমে এই লিংকে প্রবেশ করুন http://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication

বয়স্ক ও বিধবা ভাতা

এই রকম একটা সাইট দেখতে পারবেন। এখানে কার্যক্রম থেকে বিধবা নাকি বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করবেন সেটা সিলেক্ট করুন ।

আমি এখানে বয়স্ক সিলেক্ট করলাম । সিলেক্ট করার পর দেখবেন জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর ও জন্ম তারিখ চাইবে, প্রথমে ঘরে যার ভাতা করবেন তার জাতীয় পরিচয় ( NID) নম্বর ও পরের বক্সে তার জম্ন তারিখ সিলেক্ট করুন ।

তারপর যাচাই করুন বাটনে ক্লিক করুন । *মাঝে মাঝে সার্ভারের সমস্যার কারণে Error NID & DoB don’t match দেখাতে পারে । তখন কয়েকবার যাচাই বাটনে ক্লিক করবেন ।

২। যাচাই বাটনের ক্লিক করার পর আপনার জাতীয় পরিচয়ের নম্বর ও জন্ম তারিখ ঠিক থাকলে সেই আইডির পুরো তথ্য দেখতে পারবেন । তার নাম,মাতার নাম,পিতার নাম দেখতে পারবেন ।

৩। প্রথমে পর্বে তার মাতার নাম ও পিতার নাম ইংরেজি তে লিখুন । সে কোন ধর্মের সেটা সিলেক্ট করুন । যদি স্বামী মৃত হয় তাহলে অবশ্যই তার নাম লিখুন ।

৪। নিচের পর্বে বৈবাহিক অবস্থা সিলেক্ট করুন। যদি বিবাহিত হয় তাহলে বিবাহিত আর যদি বিধবা হয় তাহলে বিধবা সিলেক্ট করুন ।

৫। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবারে পুরুষ ও মহিলা কত জন, পরিবারে কোন হিজড়া আছে কিনা সেটা উল্লেখ্য করুন । তিনি যদি কোন কাজ করে থাকে তাহলে পেশা কর্মরত দিন, তবে কর্মহীন দেওয়ায় উচিত। বার্ষিক আয় আছে কিনা থাকলে সেটা দিন। তার কি কাজ করার মত ক্ষমতা আছে কিনা সেটা  দিন । কোন প্রকার সরকারি/বেসরকারি সুবিধা পায় কিনা সেটা নির্বাচন করুন । বাসস্থান কি তার নিজের জমিতে সেটা নির্বাচন করুন । তার কোন জমির মালিকানা আছে কিনা সেটা লিখুন ।

ভাতা

৬। নিচের পর্বে যোগাযোগ তথ্যগুলো লিখুন । ভিবাগ, জেলা, তার অবস্থান কি ইউনিয়ন,সিটি কর্পোরেশন নাকি পৌরসভা সেটা নির্বাচন করুন। এরপর তার যে ইউনিয়ন সেটা নির্বাচন করুন। তার ওয়ার্ড, পোষ্ট কোড ও গ্রামের নাম লিখুন । তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা একই হলে পাশের বক্সে ক্লিক করুন । শেষ বক্সে  যে মোবাইল নম্বরে ভাতা পাওয়ার ইচ্ছা সেই নম্বরটি লিখুন এবং নম্বরটি কার সেটা উল্লেখ্য করুন ।

বয়স্ক ভাতা

৭। সর্বশেষ সকল তথ্যগুলো আর একবার দেখে নিন, সবকিছু ঠিক থাকলে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন । পপ আপ আসবে একটা প্রিন্ট আর একটা বন্ধ করুন অপশন দুটি দেখতে পারবেন। প্রিন্ট অপশন ক্লিক করলে আপনার ভাতার জন্য পূরণ করা ফর্মটি দেখতে পারবেন । প্রিন্ট করে রাখুন ।

ভাতার আবেদন

ব্যস হয়ে গেল আপনার ভাতার জন্য আবেদন করা । এখন আপনার অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করা লাগবে না ।

আরো পোষ্টঃ সুরক্ষা অ্যাপ ও প্রবাসী অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা কিভাবে টিকার আবেদন করবেন

বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদনের জন্য কিছু প্রশ্ন ও উত্তর:ব

প্রঃ বয়স্ক ভাতার আবেদন করতে কত বয়স লাগবে?

উঃপুরুষের ক্ষেত্রে ৬৫বছর এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর ।

প্রঃ যারা ভাতা পায় তারাও কি করতে পারবে ?

উঃ জী না তাদের নতুন করে করার কোন দরকার নেই ।

প্রঃ বিধবাদের জন্য কোন বয়স আছে কিনা?

উঃ না, বিধবা হলেই হবে ।

প্রঃ আমার আবেদন গ্রহণ করেছে কিনা সেটা বোঝবো কি করে?

উঃ অনলাইনে সফলভাবে আবেদন করতে পারলে বুঝবেন আবেদন গ্রহণ করেছে ।

প্রঃ কতদিন পর টাকা দেবে?

উঃ এটা ঠিক বলা যাচ্ছে না ।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *